আধুনিক শিক্ষাইয় শিক্ষকের ভুমিকা আলোচনা কর।

 শিক্ষক (Teacher)


প্রাচীন শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষক এর স্থান

প্রাচীন শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষক ছিলেন শিক্ষা জগতের কেন্দ্রবিন্দু। তিনি ছিলেন জ্ঞানের একমাত্র উৎস ও ভাণ্ডার। এই সময় জ্ঞান শিক্ষকের কাছ থেকে শিক্ষার্থীর দিকে একমুখী প্রবাহিত হত। শিক্ষক ছিলেন অন্নের মতো উপাদান এবং শিক্ষার্থী ছিলেন নিষ্ক্রিয় গ্রহণকারী। "শিক্ষক যা বলতেন, তাই শিক্ষার্থীদের করতে হত"। এই সময় শিক্ষার্থীদের সামর্থ্য, আগ্রহ, অভিরুচি ইত্যাদির উপর কোনো গুরুত্ব দেওয়া হত না। সে সময় যে রীতি মেনে চলা হত তা হল – "Spare the rod and spoil the child" (বেতন বাঁচালে শিশু নষ্ট হয়)।


আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষক  স্থান

আধুনিক শিশুকেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থায় "শিশুকে কেন্দ্র করে সমগ্র শিক্ষা পরিচালিত হয়"। আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষক হলেন বন্ধু, দার্শনিক ও পথপ্রদর্শক (Friend, Philosopher and Guide)।

জন অ্যাডামস (John Adams) বলেছেন, "The teacher is the torch bearer of the race and guardian of the future of mankind." (শিক্ষক হলেন জাতির আলোকবাহক এবং মানবজাতির ভবিষ্যতের রক্ষক।")

শিক্ষকের গুণাবলি:

শিক্ষাবিদ জন অ্যাডামস বলেছেন, "Teacher is the maker of man." অর্থাৎ "শিক্ষক হলেন মানুষ গড়ার কারিগর।"

আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষকের ভূমিকা গৌণ হলেও শিক্ষকের সাহায্য ছাড়া শিক্ষা অসম্ভব। শিক্ষাকে পরিপূর্ণভাবে সাফল্যমণ্ডিত করতে হলে চাই আদর্শ শিক্ষক। আদর্শ শিক্ষক হতে হলে তাঁকে কিছু বিশেষ গুণাবলির অধিকারী হতে হবে।

Teacher শব্দটির অর্থ বিশ্লেষণ:

· T – Truthful (সত্যবাদী)

· E – Educated (শিক্ষিত)

· A – Active (কর্মঠ)

· C – Character (চরিত্রবান)

· H – Honest (সৎ)

· E – Energetic (উদ্যমী)

· R – Responsible (দায়িত্ববান)


বাংলা "শিক্ষক" শব্দের অর্থ:

শি – শিষ্টাচার

ক্ষ – ক্ষমাশীল

ক – কর্তব্যপরায়ণ

শিক্ষকের গুণাবলিকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়: 

১.ব্যক্তিগত গুণাবলি 

২.পেশাগত গুণাবলি 

৩.নাগরিক গুণাবলি

১. ব্যক্তিগত গুণাবলি (Personal Qualities)

· সু-ব্যক্তিত্বের অধিকারী: শিক্ষক সু-ব্যক্তিত্বের অধিকারী হলে শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবে তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হবে এবং তাঁর মতো ব্যক্তিত্ববান হয়ে গড়ে উঠবে।

· চরিত্রবান: শিক্ষক চরিত্রবান ও আদর্শের প্রতীক হবেন। ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ বলেছেন, "শিক্ষকের চরিত্র, কথা ও কাজে কোনো পার্থক্য পরিলক্ষিত হবে না।"

· দায়িত্বশীল: শিক্ষক দায়িত্বশীল হবেন এবং দায়িত্বের সঙ্গে সকল কাজ করবেন, যা শিক্ষার্থীদের মনের উপর গভীর রেখাপাত করবে।

· ধৈর্যশীল: শিক্ষক ধৈর্যশীল হবেন এবং যেকোনো কাজ ধীরে সুস্থে সম্পন্ন করে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করবেন।

· নিয়মানুবর্তী: আদর্শ শিক্ষক তাঁর প্রতিটি কাজ নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে করবেন। বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া, ফ্লাস পরিচালনা, সময়মতো কাজ শেষ করা ইত্যাদিতে শিক্ষকের এই গুণটি প্রতিফলিত হয়।

· কুসংস্কারমুক্ত: শিক্ষক চিন্তায় ও আচরণে প্রগতিশীল হবেন। তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি যথেষ্ট উদার ও ব্যাপক হবে।

· সুবিবেচক: শিক্ষক সুবিবেচক হবেন। সদাচরণ, কোমলতা, সহানুভূতি, সহনশীলতা প্রভৃতি গুণ তাঁর ব্যক্তিত্বকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে।

· তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন: শিক্ষকের বিশ্লেষণী ও তীক্ষ্ণ বুদ্ধি থাকবে। তাঁর বিচারশক্তি সুতীক্ষ্ণ হওয়া বাঞ্ছনীয়।

· পেশার প্রতি ভালোবাসা: শিক্ষক তাঁর পেশার প্রতি অনুরাগী হবেন, কারণ তিনিই হলেন মানুষ গড়ার কারিগর।

· ছাত্রপ্রেমিক: আদর্শ শিক্ষক ছাত্রপ্রেমিক হবেন। তিনি শিক্ষার্থীদের সমস্যা বুঝবেন এবং সমাধান করতে সহানুভূতির সঙ্গে চেষ্টা করবেন।

· রসবোধ: রসবোধ শিক্ষকের একটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ। পাঠদানের সময় তিনি রসবোধের সঙ্গে বিষয়বস্তু উপস্থাপন করলে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বৃদ্ধি পায়।

· জ্ঞান পিপাসু: আদর্শ শিক্ষক জ্ঞান পিপাসু হবেন এবং সারাজীবন জ্ঞান অর্জনে সচেষ্ট থাকবেন।


২. পেশাগত গুণাবলি (Professional Qualities)

· বিষয়বস্তুর গভীর জ্ঞান 

· শিশুমনোবিদ্যার জ্ঞান

· শিখন-শিক্ষণ পদ্ধতির জ্ঞান

· বিদ্যালয় পরিচালনার জ্ঞান

· সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যাবলি পরিচালনার দক্ষতা

· প্রতিপন্ন (Teaching Aids) ব্যবহারের দক্ষতা

· সাধারণ জ্ঞান

৩. নাগরিক গুণাবলি (Civic Qualities)

· রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত

· সমাজসেবী

· নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন


শিক্ষকের ভূমিকা ও কার্যাবলি

ক. শিক্ষামূলক কর্তব্য (Academic Duties)

১. আধুনিক পদ্ধতি অনুযায়ী শ্রেণিকক্ষে পাঠ পরিচালনা। 

২.অডিও-ভিজুয়্যাল উপকরণ ব্যবহার করে পাঠদান। 

৩.শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত পাঠ্যবিষয় নির্বাচন ও কার্যকরভাবে উপস্থাপন। 

৪.শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুসন্ধিৎসার সঞ্চার করা। 

৫.শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখা। 

৬.ধারাবাহিকভাবে শিক্ষার্থীর মূল্যায়ন করা। 

৭.শিক্ষার্থীদের গৃহকাজ বুঝিয়ে দেওয়া ও সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা।


খ. পরিকল্পনামূলক কর্তব্য (Planning Duties)

১. দৈনিক পাঠ পরিকল্পনা (Lesson Plan) রচনা। 

২.শ্রেণিকক্ষে অডিও-ভিজুয়্যাল উপকরণ কীভাবে ব্যবহার করা হবে, তার পরিকল্পনা। ৩.সময়তালিকা রচনা। 

৪.প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন পরিকল্পনা রচনায় সহায়তা।


গ. পরিচালনামূলক কর্তব্য (Organizing Duties)

১. বিভিন্ন দলগত কার্যাবলি পরিচালনা। 

২.পাঠাগার ও পরীক্ষাগার পরিচালনা। 

৩.বিদ্যালয়ের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য কার্যাবলি পরিচালনা।


ঘ. তত্ত্বাবধায়নমূলক কর্তব্য (Supervising Duties)

১. শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি তত্ত্বাবধান। 

২.পরীক্ষাগারের কার্যক্রম তত্ত্বাবধান। 

৩.গৃহকাজের তত্ত্বাবধান। 

৪.বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা রক্ষা করা। 

৫.হোস্টেল পরিদর্শন।


ঙ. নির্দেশনামূলক দায়িত্ব (Guidance Duties)


১. পেশা নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের নির্দেশনা দেওয়া। 

২.সহপাঠ্যক্রমিক কার্যাবলি নির্বাচনে সাহায্য করা। 

৩.ধীরগামী ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া।


চ. পরীক্ষা সংক্রান্ত কর্তব্য (Examination Duties)


১. প্রশ্নপত্র তৈরি। 

২.পরীক্ষার সময় ইনভিজিলেটরের ভূমিকা পালন। 

৩.উত্তরপত্র মূল্যায়ন। 

৪.পরীক্ষার ফলাফল রেকর্ড রাখা।


প্রেরণাদাতা (Motivator) হিসেবে শিক্ষকের ভূমিকা

শিক্ষক একজন প্রেরণাদাতা (Motivator) হিসেবে কাজ করেন। তিনি দুই ধরনের প্রেরণা প্রদান করেন:

১. অভ্যন্তরীণ প্রেরণা (Intrinsic Motivation)

শিক্ষার্থী যখন কোনো বিষয়ে স্বতঃস্ফূর্ত আগ্রহ বোধ করে, তখন তাকে শুধু অভ্যন্তরীণ প্রেরণার মাধ্যমে পরিচালিত করতে হয়।

২. বাহ্যিক প্রেরণা (Extrinsic Motivation)

যখন শিক্ষার্থীর মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ত আগ্রহ থাকে না, তখন বাহ্যিক প্রেরণার মাধ্যমে শিখন কার্যকে ত্বরান্বিত করতে হয়।


বাহ্যিক প্রেরণার কৌশল:

· প্রশংসা: শিক্ষার্থীদের সামর্থ্যের প্রশংসা করা।

· নিন্দা: নিন্দা বা তিরস্কার সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে হবে।

· পুরস্কার: শক্তিশালী উদীপক হিসেবে কাজ করে।

· শাস্তি: উপযুক্ত শাস্তি শিক্ষার্থীদের সংশোধনে সাহায্য করে।

· ধারাবাহিক মূল্যায়ন: শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা অনুসারে মূল্যায়ন।

· সাফল্যের সম্ভাবনা: শিক্ষার্থীদের সামনে সাফল্যের সম্ভাবনা উপস্থাপন।

· প্রতিযোগিতা: সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উৎসাহ সৃষ্টি।

· নতুনত্ব: শিক্ষণ পদ্ধতিতে বৈচিত্র্য আনা।

· আকাঙ্ক্ষার স্তর: শিক্ষার্থীর আকাঙ্ক্ষার স্তর বুঝে প্রেরণা দেওয়া।


পরামর্শদাতা (Mentor) হিসেবে শিক্ষকের ভূমিকা

· আন্তরিক, বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক মনোভাব

· কুসংস্কারমুক্ত ও বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তা

· আদর্শ আচরণ

· শিক্ষার্থীর সামর্থ্য ও দুর্বলতা সম্পর্কে সচেতনতা

· সমস্যা সমাধানের বিকল্প উপায় প্রদান


পরামর্শদাতার কাজ:

১. শিক্ষার্থীকে সক্ষম করে তোলা 

২.সমস্যা মোকাবেলায় সাহায্য করা 

৩.শিক্ষা সংক্রান্ত তথ্য বুঝতে সহায়তা করা 

৪.আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলা 

৫.পাঠে অমনোযোগী শিক্ষার্থীদের সাহায্য করা 

৬.শিক্ষার্থীর মনে দৃঢ়তা আনা 

৭.অবাঞ্ছিত আচরণে বাধা দেওয়া 

৮.যথাযথ বিষয় নির্বাচনে সাহায্য করা 

৯.উপযুক্ত পরামর্শ প্রদান


সহায়ক (Facilitator) হিসেবে শিক্ষকের ভূমিকা

সহায়কের কাজ:

১. পাঠদানের কৌশল নির্ধারণ 

২.বিষয়বস্তুর প্রতি গুরুত্ব দেওয়া 

৩.প্রয়োজনমত সংকেত প্রদান 

৪.শিক্ষার্থীর সমস্যা সমাধানে সহায়তা 

৫.বিষয়গত ত্রুটি সংশোধন 

৬.বিষয়বস্তুকে ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত করে বোঝানো 

৭.শ্রেণিকক্ষে উপযুক্ত স্থান নির্ধারণে সাহায্য 

৮.অনুকূল শিক্ষণ পরিবেশ সৃষ্টি 

৯.প্রয়োজন অনুযায়ী বারবার শেখানো

১০.সামঞ্জস্যপূর্ণ জ্ঞান পরিবেশন


সমস্যা সমাধানকারী (Problem Solver) হিসেবে শিক্ষকের ভূমিকা

শিক্ষক শিক্ষার্থীদের বৌদ্ধিক, ব্যক্তিগত, শারীরিক, মানসিক, সামাজিক নানা সমস্যার সমাধান করে সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছাতে সহায়তা করেন। তিনি উপযুক্ত নির্দেশনা দিয়ে সমস্যা সমাধানকারীর ভূমিকা পালন করেন।


সমস্যা সমাধানকারীর বৈশিষ্ট্য (Characteristics of a Problem Solver)


১. শিক্ষার্থীদের সমস্যা চিহ্নিতকরণ: শিক্ষক শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সংক্রান্ত নানা সমস্যা সনাক্ত করতে সাহায্য করেন।


২. মানসিক সংকটে সহায়তা: যখন কোনো শিক্ষার্থী মানসিক সংকটে জড়িত হয়, তখন শিক্ষক তাকে নানাভাবে সহায়তা করেন।


৩. সমস্যা সম্মুখীন হলে সচেষ্ট হওয়া: যেকোনো সংকট বা সমস্যার সম্মুখীন হলে শিক্ষক তা সমাধানের জন্য সচেষ্ট হন।


৪. হস্তক্ষেপ করার সক্ষমতা: বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোনো সমস্যা দেখা দিলে শিক্ষক সঠিক সময়ে হস্তক্ষেপ করেন এবং সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসেন।


সমস্যা সমাধানকারী হিসেবে শিক্ষকের কার্যাবলি

শিক্ষক নিম্নলিখিত কৌশলগুলি অনুসরণ করে সমস্যা সমাধানে শিক্ষার্থীদের সাহায্য করেন:

১. প্রেরণার উদ্রেক (Creating Motivation)

· শিক্ষার্থীর মধ্যে সমস্যা সমাধানের আগ্রহ ও উদ্যোগ সৃষ্টি করতে শিক্ষক সচেষ্ট হন।

· শিক্ষার্থীর মানসিক অবস্থা বুঝে প্রেরণার সঠিক মাত্রা নির্ধারণ করেন।

· অতিরিক্ত বা অপর্যাপ্ত প্রেরণা উভয়ই সমস্যা সমাধানে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।


২. নতুনত্বের আবিষ্কার (Encouraging Innovation)

· শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নতুন চিন্তাভাবনা ও আবিষ্কারের জন্য উৎসাহিত করেন।

· এর ফলে শিক্ষার্থীরা নতুন কিছু আবিষ্কারের জন্য স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে শেখে।


৩. সমস্যা উপস্থাপন (Presenting the Problem)

· শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সামনে সমস্যাটি স্পষ্ট ও বোধগম্য ভাষায় উপস্থাপন করেন।

· সমস্যাটি সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেওয়ার পর সমাধানের পথে অগ্রসর হন।


৪. জটিলতা দূরীকরণ (Removing Complexity)

· শিক্ষক প্রতিটি শিক্ষার্থীর ধারণা ও ক্ষমতা অনুযায়ী জটিল বিষয়বস্তু বা সমস্যার জটিলতা দূর করেন।

· অতি মেধাবী ও দুর্বল শিক্ষার্থী উভয়ের জন্যই বিষয়বস্তু সহজবোধ্য করে তোলেন।


৫. পরিকল্পিত উপস্থাপনা (Planned Presentation)

· শিক্ষক সমস্যা সমাধানের জন্য পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যান।

· তিনি শিক্ষার্থীরা পরিকল্পনা অনুসারে কাজ করছে কিনা তা সতর্কভাবে লক্ষ্য রাখেন।


৬. অনুশীলনের সুযোগ প্রদান (Providing Practice Opportunities)

· শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সামনে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা উপস্থাপন করেন।

· বারবার অনুশীলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সমস্যা সমাধানে দক্ষ হয়ে ওঠে।

· এর ফলে তারা ভবিষ্যত জীবনে অনুরূপ সমস্যা সমাধানে সক্ষম হয়।


সমস্যা সমাধানের পর্যায়ক্রমিক পদ্ধতি

১. সমস্যা চিহ্নিতকরণ: সমস্যাটি স্পষ্টভাবে বুঝতে সাহায্য করা।

২. সমস্যা বিশ্লেষণ: সমস্যার মূল কারণ ও প্রকৃতি বুঝতে সহায়তা করা।

৩. সমাধানের বিকল্প খোঁজা: বিভিন্ন সম্ভাব্য সমাধান পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা।

৪. সেরা সমাধান নির্বাচন: উপযুক্ত সমাধান বেছে নিতে সাহায্য করা।

৫. সমাধান বাস্তবায়ন: নির্বাচিত সমাধান কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা।

৬. মূল্যায়ন: সমাধানের ফলাফল বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন করা।


শিক্ষকের সাফল্যের মানদণ্ড

একজন শিক্ষক সমস্যা সমাধানকারী হিসেবে সফল হবেন, যখন:

· শিক্ষার্থীরা স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে শিখবে

· তারা নতুন সমস্যা মোকাবিলায় আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে

· সমস্যা সমাধানে সৃজনশীল পদ্ধতি প্রয়োগ করতে পারবে

· শিক্ষার্থীদের মধ্যে যৌক্তিক চিন্তাভাবনার বিকাশ ঘটবে


উপসংহার: সমস্যা সমাধানকারী হিসেবে শিক্ষকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি শুধু জ্ঞানদাতাই নন, বরং শিক্ষার্থীদের জীবনসংগ্রামে সফল হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও মানসিকতা গড়ে তোলার দায়িত্বও পালন করেন।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

শিক্ষা কি ?

বিভিন্ন শিক্ষাবিদ এর মতে শিক্ষার সংজ্ঞা।